ব্যবসা শুরু

অনলাইনে কী বিক্রি করবেন? প্রোডাক্ট বাছাইয়ের আগে যে হিসাবটা করা দরকার

২৯ অক্টোবর ২০২৬ · ৩ মিনিটে পড়ুন · Joar টিম

প্রায় প্রতি সপ্তাহে কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করেন, "ভাই, এখন কোন প্রোডাক্ট চলে?" সত্যি বলতে এই প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারি না, কেউই পারে না। যে প্রোডাক্ট আজ "চলছে", সেটা চলছে বলেই আরও একশো পেজ সেটা বেচছে। আপনি গিয়ে দাঁড়াবেন সবচেয়ে ভিড়ের লাইনে।

তার চেয়ে কাজের প্রশ্ন হলো: কোন প্রোডাক্টে আমার হিসাব মেলে?

প্রথমে খাতা-কলমের হিসাব

যেকোনো প্রোডাক্ট মাথায় এলে একটা কাগজে এই কয়টা লাইন লিখুন:

  • বিক্রির দাম
  • কেনার দাম (পাইকারি বা বানানোর খরচ)
  • প্যাকেজিং
  • কুরিয়ার চার্জ (কাস্টমার দিলেও, ফেরত এলে আপনাকেই দিতে হয়)
  • একটা অর্ডার পেতে বিজ্ঞাপনে আনুমানিক কত খরচ
  • দশটায় একটা রিটার্ন ধরলে প্রতি অর্ডারে কত ক্ষতি

সব বাদ দিয়ে যা থাকে, সেটাই আসল লাভ। অনেক প্রোডাক্ট কাগজে দেখতে দারুণ লাগে — কেনা ২০০, বেচা ৫০০। তারপর বিজ্ঞাপন আর রিটার্ন ধরলে দেখা যায় ৫০ টাকাও থাকে না।

আমাদের মেহেদির ব্যবসায় একটা জিনিস শিখেছি: একটা কোন একা বেচলে ডেলিভারি চার্জই প্রায় দামের সমান হয়ে যায়। তাই আমরা কম্বো করি — কয়েকটা একসাথে, একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার নিচে অর্ডার নিই না। এতে প্রতি পার্সেলে লাভ থাকে।

যে প্রোডাক্টগুলো অনলাইনে সহজ

একেবারে নিয়ম না, তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকলে কাজ সহজ হয়:

  • হালকা আর ভাঙে না। কুরিয়ার চার্জ কম, নষ্ট হওয়ার ভয় কম।
  • বারবার কেনে। যেটা শেষ হয়ে যায় — প্রসাধনী, খাবার জাতীয় জিনিস, পোষা প্রাণীর জিনিস — সেখানে একবার কাস্টমার পেলে বারবার অর্ডার আসে। নতুন কাস্টমার আনার চেয়ে পুরনোকে দিয়ে আবার কেনানো অনেক সস্তা।
  • দোকানে সহজে পাওয়া যায় না। মোড়ের দোকানে যা পাওয়া যায়, সেটা মানুষ কুরিয়ার চার্জ দিয়ে কিনতে চায় না।
  • ছবিতে বা ভিডিওতে দেখানো যায়। যে জিনিস হাতে না ধরলে বোঝা যায় না (যেমন কাপড়ের মান), সেখানে রিটার্ন বেশি হয়।
  • সাইজের ঝামেলা কম। জামা-জুতায় সাইজ না মিললে ফেরত আসে। নতুন হলে এমন কিছু দিয়ে শুরু করা ভালো যেখানে সাইজের প্রশ্ন নেই।

আমরা যেভাবে একটা প্রোডাক্ট টেস্ট করি

নতুন কিছু আনার আগে একসাথে বেশি মাল কিনি না।

  1. অল্প কিছু পিস আনি, বা আগে ছবি দিয়ে প্রি-অর্ডার নিই।
  2. দুই-তিনটা আলাদা ছবি বা ভিডিও দিয়ে ছোট বাজেটে বিজ্ঞাপন চালাই।
  3. দেখি কতজন মেসেজ দিচ্ছে, আর তার কতজন আসলে অর্ডার করছে।
  4. প্রথম অর্ডারগুলোর ডেলিভারি আর রিটার্ন দেখি।

এক-দুই সপ্তাহে বোঝা যায় প্রোডাক্টটা টানবে কিনা। না টানলে লস হয় অল্প, শিক্ষাটা হয় অনেক।

নিশ (niche) ছোট রাখুন

"সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়" — এমন পেজের ওপর মানুষ ভরসা কম করে। একটা নির্দিষ্ট ধরনের কাস্টমারের জন্য একটা নির্দিষ্ট ধরনের জিনিস — এভাবে শুরু করলে বিজ্ঞাপনও সস্তা পড়ে, কারণ ফেসবুক সহজে বুঝতে পারে কাকে দেখাতে হবে।

যেমন শুধু "রান্নাঘর গোছানোর জিনিস", বা শুধু "বাচ্চাদের শেখার খেলনা", বা শুধু "বিড়ালের খাবার আর লিটার"। নাম শুনলেই বোঝা যায় পেজটা কার জন্য।

যা এড়িয়ে চলবেন

  • নকল ব্র্যান্ডের জিনিস। একদিন পেজ বন্ধ হবে, সাথে বদনাম।
  • যে জিনিসে আইনি অনুমতি লাগে — ওষুধ, কিছু খাবার, কিছু ইলেকট্রনিক্স — সেখানে আগে নিয়ম জেনে নিন।
  • শুধু দাম কম রেখে প্রতিযোগিতা। যে সবচেয়ে সস্তা, সে সাধারণত টিকে থাকে না।

শেষে

ভালো প্রোডাক্ট মানে এমন প্রোডাক্ট নয় যেটা সবাই বেচছে। ভালো প্রোডাক্ট মানে যেটায় আপনার হিসাব মেলে, যেটা আপনি বুঝিয়ে বলতে পারেন, আর যেটার কাস্টমার আবার ফিরে আসে।

শুরু করার পুরো ধাপগুলো নিয়ে ফেসবুক পেজে ব্যবসা শুরুর লেখাটা পড়তে পারেন।

Joar Team

আমরা নিজেরা ফেসবুক পেজে অনলাইন দোকান চালাই, আর বাংলাদেশের অনলাইন সেলারদের জন্য ইনবক্স, অর্ডার, কুরিয়ার আর কলিংয়ের টুল বানাই। এখানে যা লিখি, তা নিজের দোকান চালাতে গিয়ে শেখা। আমাদের সম্পর্কে →

Keep reading

4 min read

ফেসবুক পেজ দিয়ে অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন? প্রথম তিন মাসে যা যা জানলে ভুল কম হবে

পেজ খোলা সহজ, টিকিয়ে রাখা কঠিন। প্রোডাক্ট বাছাই থেকে প্রথম অর্ডার, কুরিয়ার আর হিসাব — নিজের দোকান চালাতে গিয়ে যা শিখে...

7 min read

ইনস্টাগ্রামে অনলাইন ব্যবসা কীভাবে করবেন — ফেসবুক পেজের পাশাপাশি দ্বিতীয় দোকান

ফেসবুক পেজ আছে, কিন্তু ইনস্টাগ্রামে ব্যবসা কীভাবে শুরু করবেন বুঝছেন না? প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট, প্রোফাইল সাজানো, পোস্ট আর...

3 min read

ফেসবুক বুস্ট না অ্যাডস ম্যানেজার? কম টাকায় বেশি মেসেজ পাওয়ার জন্য যা করি

"বুস্ট করলাম, লাইক এলো, অর্ডার এলো না" — খুব চেনা অভিযোগ। বুস্ট আর অ্যাডস ম্যানেজারের পার্থক্য, আর ছোট বাজেটে যা কাজ করে...